সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, ইনষ্টাগ্রাম সহ অন্যান্য সাইটের যেকোন একটিতে বা এসবের বেশিরভাগ সাইটগুলিতে বিচরণ নেই এমন ব্যক্তি বর্তমানে খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনষ্টাগ্রাম এবং গুগল প্লাসে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রায় সর্বস্তরের পুরুষ এবং মহিলাদের আগ্রহের কোন কমতি নেই। আমরা এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে এতটাই সময় ব্যয় করি যে, কখন যে সময় অতিবাহিত হয়ে যায় আমরা বুঝতেই পারি না। এমনও শোনা যায় যে, ফেসবুক ষ্ট্যাটাস দিতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে কোন তরুণ বা তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর। আবার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, চলচিত্রের সাম্প্রতিক কোন অাপডেট, অনলাইনে মালামালের ডেলিভারির অর্ডার সহ বিভিন্ন ধরনের কাজে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি ব্যপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার একটু অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে আপনার জীবনে চরম বিপদ। প্রিয়জনদের সাথে টেক্সট বা পিকচার ম্যাসেজিং বা সহজ কথায় চ্যাটিং এর তথ্য যদি অন্য কেউ দেখে ফেলে তাহলে সেই অনুভূতি কেমন হবে ? এটা যার জীবনে ঘটেছে, একমাত্র সেই বুঝবে যে অনুভূতিটা কেমন। লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা থেকে শুরু করে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও আমরা লক্ষ করে থাকি।
এখন প্রশ্ন হল আমরা কী এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেব? না মোটেও না। আমরা যদি সাবধান থাকি তাহলে কখনোই আমাদের সামাজিক মাধ্যমগুলি অন্যের দখলে যাবে না। আপনার নিজস্ব দূর্বলতার কারণেই আপনার প্রাণপ্রিয় ফেসবুক একাউন্টটি অন্য কেউ হ্যাক করে নিতে পারে সহজেই।
আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিছু সাবধাণতা অবলম্বন করলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে, আপনার একাউন্ট কখনোই কেউ হ্যাক করতে পারবে না। যেমনঃ
ফেসবুক
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাঃ আপনার মোবাইল নাম্বারকে ফেসবুক পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না। আপনার ফেসবুক আইডির লগইন এর জন্য জটিল এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। কমপক্ষে আট সংখ্যার পাসওয়ার্ড থাকা ভাল। আট সংখ্যার সাথে একটি বা দুটি ইংরেজি বড় বা ছোট হাতের অক্ষরের পাসওয়ার্ড কম্বিনেশন থাকা আপনার ফেসবুক আইডির জন্য খুবই ভাল। সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না।
- অপরিটিত লোকের পাঠানো কোন লিংকে না জেনে প্রবেশ করবেন না বা ক্লিক করবেন না। আপনার ইনবক্সে যদি কোন পরিচিত বা অপরিচিত লোকের কোন লিংক বা কোন ভিডিও বা অডিও বার্তায় ক্লিক করার পর যদি ফেসবুক লগইন পেজটি চলে আসে তবে ধরেই নিবেন যে আপনি হ্যাকিং এর শিকার হতে চলেছেন।
- আপনার ফেসবুক আইডির সেটিংস অপশনে গিয়ে Security and Login এ গিয়ে Use Two Factor Authentication টি চালু ব্যবহার করুন। এমনকি Security and Login এ গিয়ে Authorized Login অপশনে গিয়ে কোন কোন ডিভাইসে আপনি আপনার ফেসবুক একাউন্টটি ব্যবহার করবেন সেটিও সিলেক্ট করে রাখা যাবে। যদি অন্য কোন ডিভাইস থেকে আপনার ফেসবুক লগইন করার চেষ্ট করা হয় সাথে সাথে আপনার কাছে ম্যাসেজ চলে আসবে।
- ফেসবুক থেকে সবসময় লগআউট করে বের হবেন। অটো লগইন ফিচারটি ব্যবহার না করাই ভাল। কোন ডিভাইসেই লগইন ডিটেইলস সেভ করে রাখবেন না। যদি কোন কাজের প্রয়োজনে বাইরের কোন কম্পিউটারে আপনার ফেসবুক লগইন করেন তাহলে কাজ শেষ করেই নিজেই লগআউট করে দিবেন।
All Rights Reserved by
https://mozammelhr.blogspot.com

No comments:
Post a Comment